আলোচিত মঞ্জুর হত্যা: ৪০ বছর পর এরশাদকে অব্যাহতি
চার দশক পর বহুল আলোচিত মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার অভিযোগপত্র থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে আরেক আসামি আবদুল লতিফের নামও।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সিআইডির পক্ষ থেকে ‘মৃত্যুজনিত কারণে অভিযোগের দায় থেকে তাদের অব্যাহতির’ আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
তদন্ত, পুনঃতদন্ত, চার্জশিট-সম্পূরক চার্জশিট এভাবেই চারদশক কেটে গেছে বহুল আলোচিত মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার বিচার। কয়েকবার এ মামলার রায়ের দিন ধার্য হলেও আইনি নানা জটিলতায় আটকে যায়। চারদশক পর আবারও এ মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করলো পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। যে চার্জশিটে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুল লতিফকে মামলার আসামি হিসেবে বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। ১২ জানুয়ারি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি।
এই দুই আসামি মারা যাওয়ায় তাদের অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে ২৫ জানুয়ারি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার পথে মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে আটক করে পুলিশ। এরপর ওই বছরের ২ জুন তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এর ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে মঞ্জুরের ভাই মামলা করলে সে বছরই এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পরপরই শুরু হয় হত্যা মামলার বিচার কাজ। তবে দফায় দফায় রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদন আর সরকার বদলের কারণে বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে আসতে সময় লেগে যায় আরও প্রায় ১৮ বছর। প্রয়াত এরশাদ ও লতিফকে বাদ দেওয়ায় বর্তমানে এ মামলার আসামির সংখ্যা তিনজন। তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী এমদাদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসুর রহমান শমসের। বর্তমানে তারা প্রত্যেকেই জামিনে রয়েছেন।