ধর্ষণ প্রশ্নে আমাদের অবস্থান সার্বজনীন

কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় ৩ কার্য দিবসের মধ্যে চার্জ গঠন ও সাক্ষ্য শুনানি শেষে দেয়া রায়ে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদেরের (৪২) আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

অশিক্ষিত উগ্রবাদী মোল্লারা যে বলে মেয়েদের পোশাকের জন্য ধর্ষণ হয়, তাহলে কুষ্টিয়ার এই মাদ্রাসা ছাত্রীকে কেন ধর্ষণ করা হলো? এই মেয়েটিতো মাদ্রাসারই ছাত্রী। তাকে ধর্ষণ করেছে মাদ্রাসা সুপার আব্দুল কাদের। ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ যে করে সমস্যা সেই লোকের মগজে, তার মধ্যেই একধরণের পশু লুকিয়ে থাকে। মনে আছে নুসরাতের কথা? সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ছাত্রী, আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীটি কিংবা নুসরাত এদের তো  (মোল্লাদের ভাষায়) পোশাকের কোন সমস্যা ছিলা না! 

ঐক্যফ্রন্ট, চৈনিক বাম ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন করে অথচ মাদ্রাসাগুলোতে শিশু ধর্ষণ নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করে না। কিছু সুশীল ও জামায়াত-বিএনপিপন্থী তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের ধর্ষণ বিরোধী বক্তব্যের ফুলঝুরি দেখা যায় কিন্তু শুধু ছাত্রলীগের কতিপয় বিপথগামীদের ক্ষেত্রে। সংকীর্ণ ও নির্লজ্জ দলীয় রাজনীতির কারণে মাদ্রাসাগুলোতে নারী ও শিশু ধর্ষণ নিয়ে এসব ভণ্ড বুদ্ধিজীবীদের মুখ বন্ধ থাকে। 

অন্যদিকে, ধর্ষণ প্রশ্নে আমাদের অবস্থান সার্বজনীন। আওয়ামী লীগের কেউ অপরাধ করলেও আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। আমি এবং আমরা সুবর্ণচর, সিলেট ও নোয়াখালীর ঘটনার ধর্ষক পশুদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছি। ধর্ষকদের ছবি সব পোস্ট দিয়েছি। নারী নিপীড়নের প্রশ্নে আমাদের কোনো রাজনৈতিক অন্ধত্ব নেই। আমরা সকল ধর্ষকের বিরুদ্ধে, সকল নিপীড়িত নারীর পক্ষে। আমরা সকল ধর্ষণের বিচার চাই, সকল ধর্ষকের সাজা চাই। যে রাজনীতিতে সততা নেই, আছে শঠতা, জনগণ সেই রাজনীতি গ্রহণ করে না। 

সরকারকে ধন্যবাদ দেই এই জন্য যে, এ দেশেই এক যুগ আগেও বিচারের বানী নীরবে কাঁদতো, অথচ এখন ধর্ষণ সহ প্রতিটি অপরাধের বিচার হচ্ছে এদেশে।

(আমাদের অবস্থান আলেম নামধারী উগ্রবাদী, ভণ্ড ও ধর্ষক মোল্লাদের বিরুদ্ধে। সুশিক্ষিত প্রগতিশীল আলেমদের আমরা শ্রদ্ধা করি)

লেখক: সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *