Thursday, 19/10/2017 | 1:58 UTC+6
দৈনিক বাংলাদেশ

সুবর্ণ এক্সপ্রেসে আগুন, শিবির নেতাসহ আটক ২

দেশের একমাত্র বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসের চারটি কোচে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রামের কদমতলী রেলক্রসিংয়ের কাছে এ নাশকতার ঘটনা ঘটে। এতে জড়িত সন্দেহে ছাত্রশিবিরের এক নেতাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তারা ঘটনায় জড়িত বাকি সবার নামধাম পেয়েছে।কোচে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার মাহবুবুর রহমানসহ মোট চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পূর্বাঞ্চল প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মিয়াজাহানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক। ক্ষতি নিরূপণের জন্য চার সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠনের আদেশ দেন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম)।গতকাল সন্ধ্যায় রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হকসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রেলপথমন্ত্রী এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেন। তিনি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বাকি তিনজন হলেন নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার মনজুরুল আলম এবং প্রহরী জসিমউদ্দিন ও রায়হান। গতকাল আটক দুজন হলেন আজগর আহম্মেদ (২৩) ও মো. মিঠু মিয়া (২৫)। মিঠু মিয়া নাশকতার সঙ্গে জড়িত নন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলেছে, ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ পর্যায়ের নেতা আজগর এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। আজগর চট্টগ্রামের সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র। পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় আজগরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা।ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আজগর আহম্মেদ পুলিশ ও রেল কর্মকর্তাদের বলেন, ভোর চারটার দিকে ছোটপুল এলাকায় তিনিসহ শিবিরের ছয়জন নেতা জড়ো হন। সেখান থেকে একটি অটোরিকশায় চড়ে কদমতলী ক্রসিংয়ের কাছে যাওয়ার পর পাঁচজন নেমে যান। আর আজগর ওই অটোরিকশায় চড়ে স্টেশন পর্যন্ত যান। পরিকল্পনামতো, ওই পাঁচজন কোচে আগুন দেন এবং আজগরকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার জন্য স্টেশনে পাঠানো হয়।রেল কর্মকর্তারা জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে পাহাড়তলী মার্শালিং ইয়ার্ড থেকে ০৪৪০ রেকটি (ইঞ্জিন ও কোচসহ সুবর্ণ এক্সপ্রেস) চট্টগ্রাম স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে যাচ্ছিল। কদমতলী ক্রসিং পেরিয়ে রেকটি স্টেশনে পৌঁছালে চারটি কোচে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সকাল সাতটায় এটি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্মের দিকে যাচ্ছিল। পরে অগ্নিদগ্ধ কোচ সরিয়ে আরও দুটি সংযোজনের পর সকাল পৌনে নয়টায় সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

পুলিশ বলেছে, আজগর পুলিশ ও রেল কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, কদমতলী ক্রসিং পার হওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের পাঁচ নেতা পেট্রলের বোতল নিক্ষেপ করে কোচে আগুন লাগিয়ে দেন। ক্রসিং থেকে এক-দেড় মিনিটের মধ্যে রেকটি ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর মুহূর্তেই চারটি কোচে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজগর ট্রেনের আগুন দেখে সন্দেহজনক ভঙ্গিতে পালানোর চেষ্টা করলে লোকজন তাঁকে আটক করে। তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রশিবিরের আরও পাঁচজনের নামধাম পেয়েছি। তাঁদের গডফাদারের নামও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। রেলে নাশকতার ঘটনায় আমরা আরও অনেক তথ্য পেয়েছি।’

রেল পুলিশ সুপার কৌশলগত কারণে বাকি আসামিদের নামধাম প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, তাঁদের ধরতে সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

নজরুল ইসলাম জানান, আজগর নাশকতার ঘটনার আগে নিজের মুঠোফোনটি সিফাতুল গণি চৌধুরী নামের একজনের সঙ্গে অদল-বদল করেন। ধরা পড়ার সময় সিফাতুলের মুঠোফোন পাওয়া যায় আজগরের কাছে। পরে অভিযান চালিয়ে সিফাতুলকে আটক করা হয়। সিফাতুল বিএএফ শাহীন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

ক্ষয়ক্ষতি: গতকালের আগুনে ৬২২৪ নম্বরের শোভন কোচটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এ ছাড়া ৬৫২০ নম্বর কোচের একটি আসন, ৬৫১১ নম্বরের চারটি আসন, ৬২০২ নম্বরের নয়টি আসন পুড়ে গেছে। আগুনের তাপে ক্ষতি হয়েছে ৬২১১ নম্বর কোচটি। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা বলে রেলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

About

Comments

comments

সম্পাদক
মফিজুল ইসলাম অলি
ফুলপুর, মোবা: 01712344037

সহকারী সম্পাদক
01. আনছারুল হক রাসেল
হালুয়াঘাট, মোবা: 01750040090
02. শাহ্‌ মোঃ নাফিউল্লাহ সৈকত
ফুলপুর, মোবা: 01711129901

প্রকাশক
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
নালিতাবাড়ী, মোবা: 01715560895

বার্তা সম্পাদক
রফিকুল ইসলাম রবি
ধোবাউড়া, মোবা: 01911415636