Thursday, 19/10/2017 | 1:59 UTC+6
দৈনিক বাংলাদেশ

সাঙ্গাকারার ব্যাটে ভারতের হার

ভারতীয় দলে না হয় তিনি ‘আউটসাইডার।’ তাই বলে স্টাম্পিংয়ের অমন সহজ সুযোগ পেয়েও তা নষ্ট করবেন!

শুরুতে এশিয়া কাপের দলে ছিলেন না দিনেশ কার্তিক। মহেন্দ্র সিং ধোনির চোটে বাংলাদেশে এসেছেন শেষ মুহূর্তে। সেদিকে ইঙ্গিত করেই প্রথম ম্যাচের আগের দিন নিজেকে বলেছিলেন আউটসাইডার। কাল ৩০ রানে কুমার সাঙ্গাকারা সহজ এক স্টাম্পিংয়ের সুযোগ দিলেন রবীন্দ্র জাদেজার বলে। বলটাকে গ্লাভসে জমিয়ে হাত চালিয়েছিলেন কার্তিক। কিন্তু কীভাবে হাত স্টাম্প না ছুঁয়ে যেন ঘুরপাক খেল বাতাসে। আরেক দফায় যখন ভাঙলেন স্টাম্প, সাঙ্গাকারা নিরাপদ আশ্রয়ে। যেমন ফর্মে আছেন সাঙ্গাকারা, তাঁকে জীবন দেওয়া মানে ম্যাচটাও হাতে তুলে দেওয়া। সাঙ্গাকারাও ঠিকই ম্যাচ পকেটে পুরেই ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে।

লঙ্কান ইনিংসের শেষের ভাগটাজুড়েই ভারত আর জয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি। ম্যাচ শেষেও তা-ই। সাঙ্গাকারা নামের এক মহিরুহকে উপড়াতে পারেনি ভারত। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলকে জিতিয়েছিলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ৬৭ করে আউট হয়েছিলেন বাজে এক শটে। দলের জয়ের পরও সেই শট নিশ্চয়ই পোড়াচ্ছিল সাঙ্গাকারাকে। কালকের ইনিংসে তাই ছাড়িয়ে গেলেন আগের দুই ইনিংসকে। ওই স্টাম্পিংয়ের সুযোগ ছাড়া প্রায় নিখুঁত ইনিংস। তাতে নিজে পেলেন অষ্টাদশ ওয়ানডে সেঞ্চুরি, জিতল দল। তবে জয়মাল্যটাই যে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উপহার ছিল, সেটার প্রমাণ সেঞ্চুরির পরও তাঁর ব্যাটটা না ওঠায়! উদ্যাপনটা জমা রেখেছিলেন দলের জয়ের জন্যই। টানা দ্বিতীয় জয়ে ফাইনালে এক পা শ্রীলঙ্কার, আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়টাকে তো ধরেই রাখা যায়।

প্রথম চার ম্যাচে পাঁচটি সেঞ্চুরি দেখে ফেলল এবারের এশিয়া কাপ। তবে সেরা নিঃসন্দেহে সাঙ্গাকারার ৮৪ বলে ১০৩ রানের কালকের ইনিংস। রান তাড়ায় আদর্শ ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের ডকুমেন্টারি ছিল যেন ইনিংসটি। দেখালেন চাপের মাঝে মাথা ঠান্ডা রেখে, আরেক পাশে ক্রমাগত উইকেট হারিয়েও আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া যায়। মোহাম্মদ সামির ফুলটসে আউট হয়ে যখন ফিরলেন, দল তখন জয় থেকে মাত্র ৭ রান দূরে। ছোটখাটো নাটক এর পরও হলো। মেন্ডিসের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল কার্তিকের গ্লাভসে বাতাস লাগিয়ে চলে গেল সীমানার বাইরে। দুই দলের রান যখন সমান, থিসারা পেরেরার সহজ ক্যাচ ছাড়লেন শিখর ধাওয়ান। এমনকি জয় এনে দেওয়া রানটিতেও ছিল রানআউটের সুযোগ। রাতে হিসাব কষতে গিয়ে ফিল্ডিংয়ের ব্যর্থতাগুলোই চোখে ভাসবে কোহলির। ৫ রানে জীবন পাওয়া লাহিরু থিরিমান্নে করেছেন ৩৮, ৭ রানে জীবন পেয়ে কুশল পেরেরা ৬৪। দুই ওপেনারের ৮০ রানের জুটিতেই শ্রীলঙ্কা পেয়েছে ২৬৫ রান তাড়ার ভিত। অধিনায়ক কোহলির ৮ ম্যাচের জয়যাত্রাও থামল ২ উইকেটের এই পরাজয়ে।

অথচ সাঙ্গাকারা নন, ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন রবীন্দ্র জাদেজা। হ্যাঁ, তাঁর বলে কার্তিক ওই সহজ স্টাম্পিং মিস করার পরও। ভাগ্যটাকে পক্ষে না পেয়ে নিজের হাতেই ভাগ্য গড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মাহেলা জয়াবর্ধনে দুঅঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফেরানোর পর দিনেশ চান্ডিমালকে বোল্ড করেছেন অসাধারণ এক বলে। শেষ স্পেলে চতুরঙ্গ ডি সিলভাকেও ফিরিয়ে জমিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচ। সুনীল নারাইনের মতো বোলিং অ্যাকশন পাল্টে নিজের অ্যাকশনে ফেরা অশ্বিনও দারুণ বোলিং করেছেন। দুই স্পিনার মিলে ২০ ওভারে ৭২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। কিন্তু সাঙ্গাকারা যে স্পিনটাও দারুণ খেলেন!

সাঙ্গাকারার ব্যাটে দল জিতেছে বলে মুখোমুখি লড়াইয়েও জয়ী লঙ্কান স্পিনাররা। প্রথম ম্যাচে বাইরে থাকা অজন্তা মেন্ডিসকে এই ম্যাচে ফেরানো হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে দারুণ রেকর্ডের কথা ভেবেই। প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়ে জ্বলে উঠেছেন মেন্ডিসও। অসাধারণ এক ক্যারম বলে কোহলিকে বোকা বানিয়ে নিয়েছেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেট, আরেকটি ক্যারম বলেই শেষ করে দিয়েছেন শিখর ধাওয়ানের সেঞ্চুরির আশা। ধোনি-রায়না-যুবরাজবিহীন ভারতীয় মিডল অর্ডারের কঙ্কাল বের করে ফেলেছেন মেন্ডিস-সেনানায়েকে। শেষ ব্যাটসম্যান সামির দুই ছক্কায় তবু ২৬০ পেরোয় ভারত। হয়তো যথেষ্ট হতো এই রানটাও, কিন্তু শ্রীলঙ্কা দলে ছিলেন যে একজন সাঙ্গাকারা!

About

Comments

comments

সম্পাদক
মফিজুল ইসলাম অলি
ফুলপুর, মোবা: 01712344037

সহকারী সম্পাদক
01. আনছারুল হক রাসেল
হালুয়াঘাট, মোবা: 01750040090
02. শাহ্‌ মোঃ নাফিউল্লাহ সৈকত
ফুলপুর, মোবা: 01711129901

প্রকাশক
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
নালিতাবাড়ী, মোবা: 01715560895

বার্তা সম্পাদক
রফিকুল ইসলাম রবি
ধোবাউড়া, মোবা: 01911415636