Thursday, 24/8/2017 | 2:52 UTC+6
দৈনিক বাংলাদেশ

সক্ষমতা বাড়ছে মোংলা বন্দরের

মোংলা সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। জেটিতে পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও বন্দর চ্যানেল থেকে জেটি পর্যন্ত নাব্যতাসংকট দূর করাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এমনটি হয়েছে। ফলে দেশের এই দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের। সেই সুবাদে গত দুই অর্থবছরে এ বন্দর পণ্য ওঠানো-নামানোয় ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন থেকে বন্দরটি দিয়ে, বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করতেন। সেই সুবাদে এটি তিন দশকের বেশি সময় ধরে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের দাম পড়ে যাওয়া, দেশে এক এক করে পাটকল বন্ধ হওয়া এবং রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসায় এ বন্দরে জাহাজ চলাচল কমতে থাকে। এর ওপর বন্দরের মাথাভারী প্রশাসন, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, চুরি, অপচয়, বিভিন্ন সরকারের অবহেলা এবং বন্দরের প্রবেশমুখ পশুর চ্যানেলের নাব্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ায় জাহাজ চলাচলে ধস নামে। যে কারণে একসময়ের লাভজনক বন্দরটি লোকসানের মুখে পড়ে।
২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে ২০০৭-০৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোংলা বন্দরের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৫২ লাখ টাকায়। একই সময়ে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ১৭০টি থেকে কমতে কমতে মাত্র ৯৫টিতে নেমে আসে।
সূত্র আরও জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সাল থেকে এ বন্দরকে সচল ও গতিশীল করার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ হাতে নেয়। যেমন বন্দরের প্রধান সমস্যা নাব্যতাসংকট দূর করতে প্রায় ১০৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে পশুর চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (বড় আকারের খনন) করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় ৩৫ দশমিক ১১ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়। কাজটি ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শুরুতে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের জন্য নতুন দুটি ড্রেজার (খনন যন্ত্র) সংগ্রহ করে। এগুলো দিয়ে দিনরাতে সব সময় কাজ করিয়ে নেভিগেশনাল এইডের কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে। এতে সুবিধা হয়েছে বন্দরের চ্যানেলে জাহাজ আগমন-নির্গমনে। বন্দরের জেটিতে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ২২টি অত্যাধুনিক স্ট্রাডল ক্যারিয়ার ও মোবাইল ক্রেনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। ফলে সহজ ও নিরাপদ হয়েছে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ। আমদানি করা গাড়ি রাখার জন্য বন্দরে নতুন দুটি কার পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন একটি কনটেইনার ইয়ার্ডও নির্মাণ করা হয়েছে জেটিতে। এ ছাড়া বন্দরের জন্য আরও দুটি নতুন জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। চার হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে মোংলা বন্দর সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

আমদানি-রপ্তানিকারকেরাও এখন মনে করেন, সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোংলা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সূত্রমতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে এ বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯০টি, সেখানে সর্বশেষ ২০১৫-১৬ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৬টিতে। একই সময়ে আমদানি-রপ্তানি করা পণ্যের পরিমাণ ১৬ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৮৪৭টি, যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৯৬৯টিতে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বা ওঠানো-নামানোর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৫১টি থেকে বেড়ে ৪১ হাজার ৯৫৩টি উঠেছে।

জানতে চাইলে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী আমিনুল হক প্রথম আলোকেবলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ধাপে ধাপে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে বন্দরটি ইতিমধ্যে গতিশীল হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এ বন্দরকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীরা মোংলা ইপিজেডে নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলছেন। এই অবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত বর্তমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

মোংলা বন্দরের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নমূলক নানা প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার ফলে মোংলা এখন একটি গতিশীল সমুদ্রবন্দর। ফলে গত দুটি অর্থবছরে এ বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে (ওঠানো-নামানো) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ শতাংশ।

রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ আরও বলেন, ‘বন্দরে অত্যাধুনিক দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এটির বাস্তবায়ন এবং পদ্মা সেতু ও খুলনা-মোংলা রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরের কর্মব্যস্ততা আরও বেড়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’

About

Comments

comments

সম্পাদক
মফিজুল ইসলাম অলি
ফুলপুর, মোবা: 01712344037

সহকারী সম্পাদক
01. আনছারুল হক রাসেল
হালুয়াঘাট, মোবা: 01750040090
02. শাহ্‌ মোঃ নাফিউল্লাহ সৈকত
ফুলপুর, মোবা: 01711129901

প্রকাশক
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
নালিতাবাড়ী, মোবা: 01715560895

বার্তা সম্পাদক
রফিকুল ইসলাম রবি
ধোবাউড়া, মোবা: 01911415636