Thursday, 24/8/2017 | 6:57 UTC+6
দৈনিক বাংলাদেশ

নির্বাচনের জন্য সাত দফা প্রস্তাব খালেদার

নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়া গুলশানের তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে জনমত গঠনের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ঘোষণা করেন তিনি।
সাত দফা প্রস্তাব হচ্ছে—এক. জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। দুই. নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও বর্তমান আরপিও সংশোধন। তিন. নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সম্মতিতে গঠিত’ নির্দলীয় সরকারের হাতে দায়িত্ব দেওয়া। চার. ভোটের তারিখ ঘোষণার পর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা। পাঁচ. নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগেই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর পাশাপাশি ‘চিহ্নিত ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিদের প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা। ছয়. সব রাজবন্দীকে মুক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে থাকা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সাত. এ সরকারের সময়ে ‘বন্ধ করে দেওয়া’ সব সংবাদপত্র ও টেলিভিশন খুলে দিতে হবে এবং আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ আটক সব সাংবাদিককে মুক্তি দিতে হবে।
সাত দফা প্রস্তাব কি আলোচনার জন্য, নাকি আন্দোলনকে গুরুত্ব দেবেন—এ প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব দিয়েছি জাতির উদ্দেশে। তা সবাই শুনেছে। নিশ্চয়ই সরকারও এর বাইরে নয়। সরকারকেই ঠিক করতে হবে, প্রস্তাব মেনে তারা আলোচনায় রাজি হবে, না আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হবে।’
প্রস্তাবে সব রাজবন্দীর মুক্তি চেয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর যাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজা পেয়েছেন, এতে কি তাঁরাও আছেন? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি রাজবন্দীদের কথা বলেছি। সাজার বিষয়টি আলাদা। সে সাজার ব্যাপারে বলেছি, কেউ যদি বিচারে অপরাধী প্রমাণিত হয়, আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তবে বিচার সুষ্ঠু হতে হবে। বিচার আন্তর্জাতিক মানের এবং ট্রান্সপারেন্ট হতে হবে। এর মধ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে সবাইকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
খালেদা জিয়া গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, সরকারের দুর্নীতি, বিরোধী দলের সঙ্গে অগণতান্ত্রিক আচরণসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, দেশে আজ যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার অবসান ঘটানো না গেলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। এই সংকট উত্তরণে অনতিবিলম্বে একটি সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ঢাকায় ২০ দলের জনসভার কর্মসূচির উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘৫ জানুয়ারিকে আমরা গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছি। ওই দিন সারা-দেশে সভা-সমাবেশ ও কালো পতাকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় সমাবেশ করতে চেয়েছি। আশা করি আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিক কর্মসূচি আসবে।’
৫ জানুয়ারি সমাবেশের অনুমতি না পেলে কী করবেন—এ প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা কর্মসূচি পালন করব। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।’ তিনি বলেন, ‘জনগণ সাহস নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ালে এই অবৈধ সরকারের পতন অনিবার্য। আমি মনে করি, জনগণের বিজয় আসন্ন। আমি বিশ্বাস করি, আগামী বছর হবে জনগণের বিজয়ের বছর।’
সাংবাদিকেরা বিএনপির চেয়ারপারসনকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে রাজপথে পাওয়া যায় না। গুলশানে আর বাসায় বসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বিএনপির নেতারাও বাসায় বসে থাকেন। আগামী দিনে জনগণের কাতারে আসবেন কি না।’— জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি জনগণের সঙ্গে সব সময় ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। রাজপথে যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই পাবেন আমাকে।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা রাজপথে কেন থাকেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, নেতারা মাঠে থাকেন। সাংবাদিকেরা গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাঠানো সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই সংবাদের তথ্য হচ্ছে, বিএনপির নেতারা মাঠে থাকেন না। মাঠে না থাকলে মামলা হচ্ছে কীভাবে?
সাংবাদিকেরা খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান, তারেক রহমান যে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজাকার বলেছেন, এ বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত কি না—জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সে (তারেক রহমান) সরাসরি এ রকম কথা বলেনি। সে যা বলেছে সব তথ্যভিত্তিক বলেছে, নিজের কোনো কথা বলেনি।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আর এ গণি, এম কে আনোয়ার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মাহবুবুর রহমানসহ ২০-দলীয় জোটের শরিক এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

About

Comments

comments

সম্পাদক
মফিজুল ইসলাম অলি
ফুলপুর, মোবা: 01712344037

সহকারী সম্পাদক
01. আনছারুল হক রাসেল
হালুয়াঘাট, মোবা: 01750040090
02. শাহ্‌ মোঃ নাফিউল্লাহ সৈকত
ফুলপুর, মোবা: 01711129901

প্রকাশক
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
নালিতাবাড়ী, মোবা: 01715560895

বার্তা সম্পাদক
রফিকুল ইসলাম রবি
ধোবাউড়া, মোবা: 01911415636