Thursday, 24/8/2017 | 7:00 UTC+6
দৈনিক বাংলাদেশ

চাপের মুখে চট্টগ্রামে গেলেন আহমদশফী

অবশেষে চট্টগ্রামে ফিরলেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী। গতকাল সোমবার ঢাকার পুলিশ তাঁকে লালবাগ মাদ্রাসা থেকে পাহারা দিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রেখে আসে। এর আগে হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের দুই দফায় রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়। সন্ধ্যায় আহমদ শফী চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামেন।শাহ আহমদ শফী গত শুক্রবার ঢাকায় এসে লালবাগের জামেয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় (লালবাগ মাদ্রাসা) অবস্থান নেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ওই মাদ্রাসায় হেফাজতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে দেখা যায়, মাদ্রাসার বাইরে অসংখ্য পুলিশ। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের অন্তত ১০০ সদস্য মাদ্রাসার ভেতরে ঢোকেন। একটি কক্ষে হেফাজতের কয়েকজন নেতাকে বসে থাকতে দেখে হারুন বলেন, ‘এঁরা এখানে কেন? এঁরাই পুলিশ পিটিয়ে এখানে এসে লুকিয়ে আছেন।’

মাদ্রাসার দোতলার একটি কক্ষে ছিলেন আহমদ শফীসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিসি হারুনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ওই কক্ষে ঢুকে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন। এরই মধ্যে মাদ্রাসার চারপাশ ঘিরে ফেলে পুলিশ ও র‌্যাব। এ সময় হেফাজতের নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, আহমদ শফীকে সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য চাপ দিয়েছে পুলিশ। তবে জোহরের নামাজ পড়ে তিনি বক্তব্য দেবেন।

বেলা পৌনে দুইটার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নুরুন্নবী ও ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল মাদ্রাসায় আসে। তখন সংবাদ সম্মেলনের জন্য সবকিছু প্রস্তুত ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পুলিশ ও ডিবির কর্মকর্তারা আহমদ শফীসহ হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রস্তুত থাকা সাংবাদিকদের কয়েকজন আড়াইটার দিকে বন্ধ দরজার সামনে জটলা করেন। পুলিশের কয়েকজন সদস্য দরজা আগলে দাঁড়ান। পৌনে তিনটার দিকে হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির সমন্বয়ক আলতাফ হোসাইন পুলিশ, ডিবি ও সাংবাদিক-বেষ্টিত হয়ে বলেন, আহমদ শফী মঙ্গলবার সারা দেশে দোয়া দিবস কর্মসূচি দিয়েছেন। রোববারের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মাগফিরাত ও আহত ব্যক্তিদের সুস্থতা কামনা করে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

বিকেল তিনটার দিকে কক্ষের দরজা খুলে ডিসি হারুন বের হন। এর কয়েক মিনিট পরই ডিবির দুই এডিসি বের হন। তাঁদের পেছনে ছিলেন আহমদ শফীসহ পাঁচ নেতা এবং নেতাদের পেছনে ছিলেন ডিবির অন্য কর্মকর্তারা। ওই পাঁচজনকে মাদ্রাসার ফটকে রাখা একটি খয়েরি রঙের মাইক্রোবাসে তুলে দেওয়া হয়। মাইক্রোবাসের আগে-পিছে পুলিশের ছয়টি গাড়িও রওনা দেয়। সেনানিবাসের জাহাঙ্গীর ফটক পর্যন্ত ছয়টি গাড়ি পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় তাঁদের। এরপর সেনানিবাসের ভেতরে পুলিশের দুটি গাড়ি আগে-পিছে থেকে আহমদ শফীর গাড়িটি পাহারা দিয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত নিয়ে যায়।

ওই মাইক্রোবাসে আহমদ শফী ছাড়াও ছিলেন তাঁর ছেলে আনাছ মাদানি, ব্যক্তিগত সহকারী শফিউল ইসলাম, খাদেম তৌহিদ ও হেফাজতের ঢাকার নেতা মাসুদ আহমেদ। পরে মাসুদ বিমানবন্দর থেকে আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। চট্টগ্রামে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কয়েক দফা যাত্রা বাতিলের পর শফী ও তাঁর সঙ্গীরা সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় একটি বিমানে ওঠেন। পৌনে এক ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে পৌঁছালে সাংবাদিকেরা আহমদ শফীর সঙ্গে কথা বলতে চান। তখন তাঁর সঙ্গে থাকা একজন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।’

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুল হক দাবি করেন, ঘোষিত ‘দোয়া দিবস’ কর্মসূচিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া।

লালবাগের ডিসি হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তো আপনাদের (সাংবাদিকদের) উপস্থিতি দেখে ভাবলাম, কোনো কিছু ঘটেছে কি না। এসে দেখি, কিছুই না। হুজুর চলে যাবেন তাঁর এলাকায়। আমি এতটুকুই জানি।’ তাঁকে পুলিশ চট্টগ্রামে পাঠিয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হুজুর নিজের গাড়িতে করে নিজের লোকজন নিয়েই বিমানবন্দরের দিকে গেছেন।’

এদিকে সংগঠনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, শাপলা চত্বরের অভিযান শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোরে লালবাগ মাদ্রাসা ঘেরাও করে। এ খবরে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল ভোরেই পুলিশ মাদ্রাসায় গিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী, মহানগরের নেতা মুফতি সাখাওয়াত হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে খোঁজে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। এরপর তাঁরা আত্মগোপনে চলে যান।

মাদ্রাসার ভেতরের পরিস্থিতি: সকাল থেকেই মাদ্রাসার ভেতরে থাকা হেফাজতের নেতারা বলছিলেন পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে তাঁদের অনেক নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সংবাদকর্মীরা নিহত ও নিখোঁজ নেতা-কর্মীদের নাম-ঠিকানা ও ফোন নম্বর চাইলে তাঁরা বলেন, তালিকা করা হচ্ছে। মাদ্রাসার ভেতরে পুলিশ ও সাংবাদিকদের অবস্থানের সময় মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র মুঠোফোনে ছবি তুলছিলেন ও ভিডিও করছিলেন। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা একাধিক মুঠোফোন নিয়ে ছবি মুছে দেন।

এদিকে আহমদ শফীকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় কিছু ছাত্র পুলিশ কর্মকর্তাদের গালাগাল করেন।

About

Comments

comments

সম্পাদক
মফিজুল ইসলাম অলি
ফুলপুর, মোবা: 01712344037

সহকারী সম্পাদক
01. আনছারুল হক রাসেল
হালুয়াঘাট, মোবা: 01750040090
02. শাহ্‌ মোঃ নাফিউল্লাহ সৈকত
ফুলপুর, মোবা: 01711129901

প্রকাশক
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
নালিতাবাড়ী, মোবা: 01715560895

বার্তা সম্পাদক
রফিকুল ইসলাম রবি
ধোবাউড়া, মোবা: 01911415636